করােনা ভাইরাস প্রতিরােধে করণীয়


করােনা ভাইরাস কি?

‘করােনা (কোভিড ১৯) ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ এনসিওভি। ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তাে মানুষের দেহকোষের ভিতরে ইতিমধ্যে মিউটেট করছে। অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। ফলে এটি আরও বেশী বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।

কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?

এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতাে করেই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। তবে এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমােনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে।

এক দশক আগে ‘সার্স' নামে যে ভাইরাসের সংক্রমনে পৃথিবীতে ৮০০ লােকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও ছিল এক ধরনের করােনা ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮হাযারের অধিক মানুষ। আর ২০১২ সালে ‘মার্স' নামের আরেকটি ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছিল ৮৫৮ জনের।

করােনা ভাইরাসের লক্ষণ সমূহ:

ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হ’ল, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর ও কাশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢােকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনাে কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং তখনই কোন কোন রােগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।


যেভাবে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস:

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রােগের সূচনা। ৩১ শে ডিসেম্বর'১৯ এই শহরে নিইমােনিয়ার মতাে একটি রােগ ছড়াতে দেখে চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। ঠিক কিভাবে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন সম্ভবত কোন প্রাণী এর উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোন মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে। এর আগে ‘সার্স' ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রথমে বাদুড় এবং পরে গন্ধগােকুল থেকে মানুষের দেহে ঢােকার নযীর রয়েছে। আর ‘মার্স ভাইরাস ছড়িয়েছিল উট থেকে। করােনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে উহান শহরে সামুদ্রিক একটি খাবারের কথা বলা হচ্ছে। শহরটির একটি বাজারে গিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই রােগের সংক্রমণ ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঐ বাজারটিতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হত। তবে ইসরাঈলের সাবেক সামরিক গােয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি শােহাম বলেছেন, ভিন্ন কথা। তার মতে, প্রাণঘাতী করােনা ভাইরাস চীনের একটি গােপনীয় জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষাগার থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষণাগারটি উহান শহরে অবস্থিত বলে দাবী করেন তিনি। তিনি নিজেও সেখানে গবেষণা করেছেন। করােনা ভাইরাস নিয়েও ঐ প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করছে বলে ধারণা করছেন তিনি। সার্সের মতাে ভাইরাস নিয়ে গবেষণাও চীনের জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচীর অন্তভূক্ত বলে জানান ড্যানি।

প্রতিরােধে উপায়:

ভাইরাসটি নতুন হওয়াতে এখনই এর কোন টিকা বা প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। এমনকি এমন কোন চিকিৎসাও নেই, যা এ রােগ ঠেকাতে পারে আপাতত প্রতিরােধের উপায় হিসাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে। যথা:

  • নিয়মিত হাত ভালােভাবে ধােয়া
  • হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা
  • ঠান্ডা ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকা
  • অপরিচ্ছন্ন হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা
  • ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরা
  • এ ভাইরাস বহনকারীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
  • ডিম ও গােশত খুব ভালাে করে রান্না করা
  • ময়লা কাপড় দ্রুত ধৌত করা
  • অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শে না আসা।
এছাড়া উপদ্রুত এলাকা যাওয়া-আসা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা রাসূল (ছা:) বলেন,
“তােমরা যখন কোন এলাকায় (প্লেগের) প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে যেয়াে না। আর যদি কোন এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেমে আসে এবং তােমরা সেখানে থাক, তাহলে পলায়ন করে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়াে না' (বুখারী হা/৫৭২৯-৩০; মুসলিম হা/২২১৯)

একইসাথে এ ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য নিম্নোক্ত দো'আ দু'টি পাঠ করতে হবে।
(১)আল্ল-হুম্মা ইন্নি-আউযুবিকা মিনাল বারছি ওয়াল জুনি ওয়াল জু-মি ওয়ামিন সায়্যিইল আসক্বা-ম। অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তােমার নিকট আশ্রয় চাই ধবল, উম্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সকল প্রকার দুরারােগ্য ব্যাধি থেকে। (আবু দাউদ হা/১৫৫৪; নাসাঈ হা/৫৫০৮ ‘আশ্রয় প্রার্থনা অধ্যায়; মিশকাত হা/২৪৭০, সনদ ছহীহ)।
(২) আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন মুনকার-তিল আখলা-কি ওয়াল আ'মা-লি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়াল আদওয়া। অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তােমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা
নতুন সৃষ্টি রােগ-বালাই থেকে আশ্রয় চাই’ (তিরমিযী হা/৩৫৯১; মিসকাত হা/২৪৭১; ছহীহুল জামে' হা/১২৯৮)।

Source : www.ongona.xyz

Load comments