চুল পড়া বন্ধ করতে কিছু উপাদান ও তেল


চুল পড়ার সমস্যা কম বেশি সবারই থাকে। কিন্তু যখন তা অতিরিক্ত হয়ে যায় তখনি শুরু হয় চিন্তা ও নানা রকমের পরামর্শ দাতাদের কথা মত কাজ করা। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল - আজ কালকের যত রংবেরঙ্গের বিজ্ঞাপন, তা দেখে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পরেন যে কোন জিনিস টা ভালো হবে।

আজকালকের যুগে যত উন্নতি হচ্ছে প্রযুক্তির, তত কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জিনিস। কিন্তু এতো বিজ্ঞাপন দেওয়া কম্পানিগুলোর সব পণ্য কি আপনার উপকারে এসেছে। সে প্রশ্ন থেকেই যায়, সাথে আরো অনেক কিছুই তো রয়েছে, যেমন: ভেজাল পণ্য বিক্রয়, অতিরিক্ত লাভের আশায় পণ্য নকল করা। আর এসব পণ্য ব্যবহার করে লাভ এর বদলে গুনতে হয় ক্ষতির পরিমান কে। সমাধান কি তাহলে, সমাধান হল প্রকৃতির দিক ছুটে যাওয়া। প্রকৃতি থেকে যে উপাদান আপনি কাজে লাগাবেন, সেটা কিন্তু বিফল এ যায়না। তাহলে এখন দেখে নেওয়া যাক, কি করতে পারেন:




প্রথম টিপস্:

কালো জিরার পুষ্টিগুণের কথা আমরা অনেকেই জানি। পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু রান্নায় স্বাদ বাড়াতেই নয়,শরীরকে নানা অসুখের সঙ্গে লড়তেও সাহায্য করে কালো জিরা। সর্দি-কাশি রুখতে কালো জিরে দিয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা নতুন কিছু নয়। তবে এর গুণের কথা আমরা অনেকেই জানি না।


আসুন জেনে নেই কালো জিরার পুষ্টিগুণ:

  1. চুল পড়া বন্ধ করতে কালো জিরার তেল খুবই উপকারি। এক চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে সম পরিমাণ কালো জিরের তেল মিশিয়ে গরম করে নিন। মাথায় ত্বকে এই তেল ঈষদুষ্ণ অবস্থায় মালিশ করুন। এক সপ্তাহ টানা এমন করলে চুল পড়া কমে যাবে।
  2. গ্রিন টির সঙ্গে কালো জিরের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে এই ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগাতে পারেন।
  3. কালো জিরায় থাকা প্রচুর পরিমাণ ফসফরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করে।
  4. পেটের সমস্যায় কাজে আসে কালো জিরা। শুকনো কালো জিরার ভেজে গুঁড়ো করে নিন।এবার আধ কাপ ঠাণ্ডা করা দুধে এই কালো জিরে এক চিমটে মিশিয়ে খালিপেটে খান প্রতিদিন। দুধ ঠাণ্ডা হওয়ায় বদহজমও হবে না।পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
  5. মাথা যন্ত্রণা মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে কালো জিরের তেল কপালে মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায়।
  6. সর্দি-কাশি থেকে বুকে চাপ লাগলে কালো জিরার তেল গরম করে বুকে ও পিঠে মালিশ করলে আরাম পাবেন।
  7. উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে সপ্তাহে এক দিন কালো জিরের ভর্তা খেলে উপকার পাবেন।
  8. কালো জিরায় ফসফরাস ও লৌহের উপস্থিতি অধিক পরিমাণে থাকায় রক্তাল্পতার রোগীরাও এ থেকে উপকার পাবেন।
কালো জিরাকে বলে সর্ব রোগের ঔষধ, অবশ্যই কালো জিরা প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে খেলে আপনার শারীরিক যেকোন সমস্যার সমাধান হতে পারে, আবার হয়তো আপনি পেতে পারেন মুক্তি নানান রকম কঠিন রোগ থেকেও। তাই কালো জিরা বাসায় রাখবেন, তবে প্রাকৃতিক ভাবে যেটা পাবেন সেটা।




দ্বিতীয় টিপস্:

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। নিয়মিত ব্যবহারে চুলে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক জৌলুস। পাশাপাশি কমবে চুল পড়াও। সরিষার তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় এই তেল ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।
চুলে নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।

সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন মিনারেল ও ভিটামিন এছাড়াও থাকে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম । যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।

তাই চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার তালুতে সরিষার তেল দিতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।

আসুন জেনে নেই সরিষার তেলে কীভাবে চুলে ব্যবহার করবেন?

  1. সরিষার তেল, লেবুর রস ও ধনিয়া গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে মাখুন। আধ ঘণ্টা রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল মজবুত ও খুশকিমুক্ত হবে।
  2. টক দই ও সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন।আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।
  3. সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করুন।
আজকাল বাজারে যে সরিষার তেল পাওয়া যাচ্ছে তা যে কতটুকু খাটি তার কোন ঠিক নেই। ঘানি টানা সরিষার তেলের গন্ধ আর ঝাজ বর্তমানে থাকা কোন তেলেই থাকেনা।

চুলের যত্নে নানান রকম প্রসাধনিক সামগ্রি যা ব্যবহার করে থাকেন, তার গুণগত মান কেমন তা বিবেচনা করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত মানুষিক চাপ ও চিন্তার কারণে চুল তারাতারি পড়ে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার

Load comments