তুমি আমাকে ভালোবাসো - প্রমাণ করো (ভালোবাসার ডাক)



ভালোবাসা একটা অদ্ভুত অনুভূতি। এ পৃথিবীতে মানুষে মানুষে যত সম্পর্ক তার সব টুকুই এই ভালোবাসার কারণেই। আপনি আপনার পরিবার, বাবা-মা, ভাই-বোন এসব যত সম্পর্ক আছে সব কিছুতেই ভালোবাসার অনুভূতি আছে।

একটা কথা আছে, সত্যিকারের ভালোবাসা প্রকাশ করা লাগেনা, এ ভালোবাসা অনূভব দিয়েই বোঝা সম্ভব, আর বাবা-মা এর সন্তান এর প্রতি ভালোবাসা ঠিক এমন ধরনের ভালোবাসা, আর ঠিক এখন অনেকেই এই ভালোবাসা অনূভব করতে পারেনা বলেই কিন্তু - ঠিকানা এখন - বৃদ্ধাশ্রম

এখন আসি সে ভালোবাসায়, যে ভালোবাসার জন্য মানুষ নিজের প্রাণ দিতেও ‍দ্বিধাবোধ করেনা আর কেউ বা এটাকে অস্ত্র বানিয়ে ভোগ করে বিভিন্ন প্রকার সুবিধা। এসব ভালোবাসার গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়েই আজকের আমার এই লেখা। ভালোবাসা প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের চাওয়া, কে চায় না যে তার এমন কেউ থাকবে যে তাকে অনেক ভালোবাসবে। তবে মনে রাখবেন, যে ভালোবাসে তার জন্য সব কিছু করাও কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ভালোবাসা বা প্রেম এ পরার ধরন অনূযায়ী এটাকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
  1. শারিরীক সুন্দর্যের জন্য ভালোবাসা
  2. আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ভালোবাসা
  3. পারস্পারিক ভাবে একজন আরেকজনকে বোঝার পর ভালোবাসা
ভালোবাসার ব্যাপার টা অনেক বৃহৎ, যারা ভালোবাসার আসল অর্থ বুঝে তাদের জন্য ভালোবাসা খুব সহজ বা কঠিন কোন ব্যাপার নয়। ভালোবাসার জন্য নিজের জীবন দেওয়া আর ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য অনিচ্ছা সত্যেও নিজের সতিত্বকে বলিদান দেওয়া মটেও  সত্যিকার ভালোবাসা নয়।


শারিরীক সুন্দর্যের জন্য ভালোবাসা

এ ভালোবাসার ধরন বলতে দেখা যায় যে কেউ তার বিপরীত লিঙ্গের মানুষের ভালোবাসায় পরেছে শুধু তার শারিরীক সুন্দর্যের কারণে। শারিরীক সুন্দর্যের কারণে কিন্তু সবাই মূলত ভালোবাসায় পরে, কে চায়না তার সঙ্গীনি সুন্দর দেখতে হোক বা তার সঙ্গী হ্যান্ডসাম হোক। কিন্তু আসলে ভালোবাসা তখনি শারিরীক সুন্দর্য এর পর্যায়ে পরে যখন সেটা হয় এমন, যে আপনি তাকে বুঝেন না। কিনবা সে আপনাকে বুঝেনা। কিছু একটার অভাব, সবসময় আপনাদের মিলেমিশে থাকাটা ঠিক হয়ে উঠেনা এবং শারিরীক মিলন এর পরেই আপনার আর কোন অনূভূতি তার জন্য কাজ করেনা।

এ ধরনের ভালোবাসার জন্য বিয়ের আগে হয়তো ঠিক অনূভূতি কাজ করে কিন্তু বিয়ের পরে একটা দূরর্ত তৈরি হয়। ভালোবাসা বুঝার জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়, সময় নিন এবং ধর্য ধরুন, দেখবেন ধিরে ধিরে সব ঠিক হয়ে যেতে শুরু করবে। কখনো জলদিতে কোন সিন্ধান্ত নিতে যাবেন না। সঙ্গি ও সঙ্গীনিকে সময় দিন এবং বুঝার চেষ্টা করুন তার ইচ্ছা ও আকাঙ্খা গুলোকে। তবেই তো হবে সুন্দর জীবন এর প্রত্যাশা পূরণ।

আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ভালোবাসা

অনেকেই বলে সে আমাকে ভালোবাসেনা সে তো ভালোবাসে অমুক কে তার অনেক টাকা যে। আসলেই এটা বাস্তব কিন্তু আসলে এটাকে খারাব চোখ এ দেখারো কিছুই নেই। কে না চায় একটা সুন্দন জীবন। যেখানে কোন কিছুর অভাব থাকবেনা। এ সমাজের নিত্য নতুন নিয়ম যদিও তৈরি হচ্ছে কিন্তু দেখবেন সবাই তার মেয়ে ও বোনের জন্য এমন ছেলে খুজে যারা কোন চাকরি বা ব্যবসা করে, বেকার ছেলেদের কে কেউ পাত্তা দেয়না। আবার এখন ছেলের পরিবার ও এমন মেয়ে খুজে যে কোন চাকুরি বা কাজ করে, কারণ কাজ দুজনে করলে পরিবারে আর্থিক কোন অভাব থাকবেনা আর কারো কোন চাহিদা থাকলে তা ‍নিজে থেকেই পূরণ করতে পারবে।

জানি কিছু বিষয় তবুও থেকে যায়, যেমন- কারো একটু কম টাকা কিন্তু বেশি টাকা ওয়ালা মেয়ে অথবা ছেলের জন্য একজনকে ছেরে যাওয়া। এটা আসলেই খুব খারাব একটা ব্যপার, আর আসলে যারা এমন করে, তাদের বিষয়ে বলতে গেলে অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু সহজ ভাবে বললে বলা যায়, ঐ ধরনের মানুষরা আসলে জানে না ভালোবাসার মূল্য। আর তারা আর্থিক দিক থেকে কোন অভাবে না ভুগলেও কোন না কোন একদিন ভালোবাসার অভাব ঠিক বুঝতে পারে। তাই আপনিও ভেবে নিন আপনি কি করবেন। কখনো খুব তারা তারি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না। নিজের ও আপনার সঙ্গি ও সঙ্গিনীর ব্যপারে ভাবুন। মনে রাখবেন টাকা দিয়ে ভালোবাসা পাওয়া যায়না তেমনি ভালোবাসা থাকলো কিন্তু টাকা থাকলোনা তবে আপনার জীবনে সুখ আসবেনা।


পারস্পারিক ভাবে একজন আরেকজনকে বোঝার পর ভালোবাসা

এটা হলো উত্তম ভালোবাসার ধরন। একজন আরেকজন কে বোঝা, এবং অপরজনের ভালোলাগা বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দেয়া। অপর জনকে বুঝতে পারা এবং তার ভালোর জন্য চিন্তা করা। যখন দুজন মানুষ একজন আরেকজনকে ভালো ভাবে বুঝতে পারে এবং তারা সঙ্গি বা সঙ্গীনির মনের ভাবাবেগ বুঝতে পারে তখনি সেটা আসলে পারস্পারিক বোঝা বুঝি হয়।

কি ব্যপার আজ তোমাকে এতো বিষন্ন মনে হচ্ছে, মন খারাব। কিন্বা তোমার কণ্ঠ আজ এমন কেনো, শরীল খারাব নাকি তোমার। দেখবেন আপনার যা মনে হচ্ছে তা আপনার সঙ্গী/সঙ্গীনির সাথে কথা বলা বা দেখা করলেই সাথে সাথে বলতে পারে। তবেই কিন্তু আপনি তাকে বুঝতে পারছেন ধরতে পারেন। তবে এ ব্যপারে সবাই এক হবে এমনটা কিন্তু মটেও সঠিক নয়। ধরুন কেউ আছে, যারা আপনার মন খারাব দেখে আপনাকে তো কিছু বলে নি, কিন্তু আপনার মন খারাবের কারণটা বের করে তার সমাধান খুজা শুরু করছে বা সমাধান করে দিছে।

শুধু এতোটুকু ব্যপারে আসলে এটার সব প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ভালোবাসার প্রকাশের ধরন বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ধরনের হয়। শুধু এসবের উপর ভিত্তি করে কিন্তু ভালোবাসার পরিমাপ করা যায়না কখনো। কারণ ভালোবাসা এমন একটা ব্যাপক ব্যপার যার বর্ণনা করে শেষ করা যায়না। আর আপনার প্রিয় মানুষটাকে বুঝতে কখনো তুলনার প্রয়োগ করবেন না। যেমন অনেকে বলে, ওর বয়ফ্রেন্ড/গালফ্রেন্ড এমন, তুমিও এমন কেনো হতে পারোনা। আসলে এসব দিয়ে কাওকে বিবেচনা করাটা মটেও ঠিক কাজ নয়। সবাই সব দিক দিয়ে ভালো হয়না, কিন্তু সবারই মাঝে ভালো কিছু অবশ্যই থাকে। সেটাকে আপনার মত করে গ্রহণ করুন। অপর জনকে বুঝার চেষ্টা করুন। দেখবেন সুখি হবেন।

Load comments