হরমোন এবং মাথাব্যাথা সাথে ঋতুচক্রের প্রভাব


গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০ লাখ মহিলা মাথা ব্যাথায় ভোগেন। হরমোন নিঃস্বরনের তারতম্য এ মাথা ব্যাথার কারণ হিসেবে মনে করা হয়।

যেসব নারীদের মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যাথা আছে, তাদের বেশিরভাগের মাথাব্যাথার সাথে মাসিকের একধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়।

মাসিকের প্রথম তিন দিনে বা মাসিক শুরু হওয়ার দুই দিন আগে থেকে হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন হয় যা মাথা ব্যাথা শুরুর কারন হতে পারে। এই সময় ইস্ট্রজেনের (নারীদের অধিক নিঃসৃত হরমোন) মাত্রা কমে যায় এবং মাসের অন্যান্য দিনের মাইগ্রেনের ব্যাথার চেয়ে মাথাব্যাথার মাত্রা বেশি তীব্র হয়।

শুধু মাসিকই হরমোনজনিত মাথা ব্যাথা শুরুর একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য কারণগুলো হচ্ছে:

সমন্বিত গর্ভনিরোধক বড়ি : কিছু মহিলা যখন গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন করেন, তখন মাথা ব্যাথা কিছুটা কম থাকে আর কেউ কেউ যখন গর্ভনিরোধক বড়ি সেবনে বিরত থাকেন তখন বেশী বেশী মাথা ব্যাথায় আক্রান্ত হন এবং এই সময় রক্তে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়।

রজোবন্ধ : কারো রজোবন্ধ(Menopause) যত ঘনিয়ে আসে, মাথা ব্যাথার মাত্রা আরো খারাপ হওয়া শুরু করে। কারণ, এই সময় ঘন ঘন মাসিক হতে থাকে এবং স্বাভাবিক হরমোন চক্রে ব্যাঘাত ঘটে।

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহে মাথা ব্যাথা বাড়তে পারে, কিন্তু শেষ ৬ মাসে মাথা ব্যাথা উপশম হতে পারে বা একেবারে নাও হতে পারে । এতে বাচ্চার কোন ক্ষতি হয় না।

যেমনটা বলা হয়েছে, অধিকাংশ মহিলা তাদের মাথা ব্যাথা এবং মাসিকের মধ্যে একটা সম্পর্ক খুঁজে পান, তবে সবার ক্ষেত্রে এটা সত্য নাও হতে পারে। মাসিকের সময়ের সাথে মাথা ব্যাথার মাত্রা বাড়ছে না কমছে তার একটা হিসেব রাখার চেষ্টা করুন। কমপক্ষে তিন মাসের হিসেব দেখে আপনার মাথা ব্যাথার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন যে এটা মাসিক এর সাথে সম্পর্কিত মাথাব্যাথা কিনা।

যদি আপনি দেখেন যে আপনার মাসিকের সাথে আপনার মাথা ব্যাথার একটা সম্পর্ক আছে, তবে মাসিক শুরু হওয়ার তারিখের পূর্বেই কিছু প্রস্তুতি নিন যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে:

বারবার অল্প অল্প করে হালকা খাবার খান, যাতে আপনার রক্তে চিনির পরিমান বেশি থাকে; কারণ খাবার না খেলে বা বেশিক্ষন খাবার না খেয়ে থাকলে আপনার মাথা ব্যাথা শুরু হতে পারে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা খাবার খেয়ে নিন এবং নিয়মিত সকালের নাস্তা খেয়ে নিন।

প্রত্যেকদিন একই সময় ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এমনভাবে ঘুমান যেন খুব বেশিও না হয় আবার খুব কমও না হয়ে যায়।

বাড়তি চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। যদি তা না পারেন, তবে মানসিক চাপ কমায় এ ধরনের কাজ (যেমন- ব্যায়াম করা এবং প্রশান্তি আনয়ন পদ্ধতি) করা।

যদি এই মাথা ব্যাথা আপনার দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে, তবে সবচেয়ে ভাল কাজ হবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। যদি আপনার নিয়মিত মাসিক হয় ও মাসিকজনিত প্রকৃতির মাথাব্যাথা থাকে, তবে মাসিক শুরুর পূর্বে এবং মাসিক চলাকালীন কয়েক দিন বাড়তি ইস্ট্রজেন সেবন করুন। এতে আপনার মাসিকজনিত মাইগ্রেনের ব্যাথা ভাল হতে পারে। ডাক্তার আপনাকে মাসিকের সময় আ্যান্টাই-মাইগ্রেন ঔষধ সেবনেরও পরামর্শ দিতে পারেন। এই ঔষধগুলোতে হরমোন থাকে না, তবে এগুলো মাথা ব্যাথা শুরু হওয়া রোধ করতে পারে। এগুলোর মধ্যে ট্রিপট্যানস (triptans), মেফেনামিক এসিড (mefenamic acid) নামক ব্যাথা নাশক ঔষধ রয়েছে। পেনাডলও উপকারি‍!

মহিলাদের রজোবন্ধের (Menopause) সময় ঘনিয়ে আসলে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য মাইগ্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের মাথা ব্যাথা দেখা দিতে পারে। এসব মাথা ব্যাথার চিকিৎসায় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) বেশ উপকারি ফলাফল দিতে পারে।


এসমস্ত তথ্য শুধু আপনাকে এসব রোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য। এগুলো রোগের চিকিৎসা নয়।

সূত্রঃ মায়াআপা

Post a Comment

2 Comments