কাপড় বনাম প্যাড - ব্যবহার সুবিধা ও অসুবিধা


আজকাল টিভি খুললেই স্যানিটারি ন্যাপকিন এর বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ছাত্রী বা কর্মজীবী নারীরা সাদা প্যান্ট বা সালোয়ার পরে খুব স্বচ্ছন্দে তাদের সাধারণ কাজকর্ম করা সহ খেলাধুলাও করছেন আর অধিক শোষণক্ষমতা সম্পন্ন, বড় আকারের স্যানিটারি ন্যাপকিন ই তাদের মাসের বিশেষ দিনগুলোতে এমন সতেজ ও প্রানবন্ত রাখছে এবং কোন কাজে কোন ধরনের বাধা তৈরী হতে দিচ্ছেনা ফলে একটি সুখভরা হাসিময় মুখ-ই বিজ্ঞাপনের শেষ দৃশ্য।

আধুনিক তরুনী ও মহিলারা এসব বিজ্ঞাপন থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিনের স্বাস্থ্যগত দিকটি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেন না, কারণ এটা ধরেই নেয়া হয় তারা স্যানিটারি ন্যাপকিন এর উপযোগিতার চাইতে কোন ব্র্যান্ডের ন্যাপকিন বেশী শোষণক্ষম সেই ব্যাপারে বেশী আগ্রহী, কারণ এটিই তাদের দিনভর স্বচ্ছন্দে রাখতে পারে এবং তাদের মেয়েলি অস্বস্তিগুলো লুকিয়ে তাদের পুরুষের সাথে সমানতালে কাজ করতে সাহায্য করে। দাদি-নানিদের আমলের মত মাসিকের সময় এক সপ্তাহের ছুটি নেওয়ার এখন আর কোন দরকার নেই।

ডিসপোজেবল প্যাড ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে গবেষণা শুরুর আগে গ্রামাঞ্চলের মেয়েরা মাসিকের সময় যে কাপড় ব্যবহার করে তার অনেক কুফল রয়েছে ভাবা হত, কিন্তু অবাক করার মত ব্যাপার যে আমেরিকার মত দেশে যোনিদেশের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে একধরনের নতুন এবং “প্রাকৃতিক (green)” দৃষ্টিভঙ্গির প্রচলন হয়েছে যেখানে “ন্যাকড়া” বা কাপড়কে সম্পূর্ণ নতুনভাবে দেখা হচ্ছে।

এখন বলা হচ্ছে কাপড়ের প্যাড (fabric pads) ব্যবহার করা অনেক পরিবেশ বান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্যে কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে অনেক নারীই মাসে ৪০ থেকে ২০০ টাকা দামের ২-৩ টি প্যাডের প্যাকেট কেনার খরচ যোগাতে হিমসিম খেয়ে যান। তাই রক্ত-স্রাবের এই সময়টাতে আমাদের তরুনী ও নারীরা কাপড় ব্যাবহার করেও কীভাবে নিজেদের স্বাস্থ্যকরভাবে শুষ্ক ও পরিচ্ছন্ন রেখে চলবেন, তা জানা জরুরি।

প্রথমত, কাপড়ের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুতে হবে। রক্তের দাগ তোলার জন্যে গরম পানি ব্যাবহার করাটা ভাল বুদ্ধি নয়। কাপড়টি ঠাণ্ডাপানিতে কিছু সময় বা সারারাত ডুবিয়ে রেখে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, রক্তের দাগ উঠে যাবে। এরপর সেটিকে গরম পানিতে আরেকবার ধুয়ে নিয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। ব্লিচ ব্যবহার করলে কাপড়টি দুর্বল হয়ে যেতে পারে, তাই খরচে কুলোলে অক্সিজেন বেইজ্‌ড (oxygen based) কোন ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।

একই কাপড় বেশিদিন ধরে ব্যবহার করবেন না, ৪-৫টি মাসিক চক্রের পর নতুন কাপড় ব্যবহার শুরু করুন।

আপানার কোন ধরনের ফাঙ্গাস ইনফেকশন হলে সেটি কাপড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই তখন ব্যবহারের আগে সেটি ভিনেগারে ডুবিয়ে নিন।

ভালভাবে ফিট করে এমন অন্তর্বাস (underwear) পরুন, তাতে আপনার পরিধেয় কাপড় দাগমুক্ত থাকবে।

বিভিন্ন দেশের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পুনঃব্যাবহারযোগ্য কাপড়ের প্যাড তৈরি করছে। এগুলো দেখতে সাধারণ প্যাডের মতই কিন্তু সুতি কাপড় দিয়ে তৈরি এবং সঠিক স্থানে ধরে রাখার জন্য এগুলোতে বেল্ট বা আঠালো স্ট্র্যাপ থাকে। বাড়িতে আপনি তুলো এবং পুরনো জিন্স বা মোটা কাপড় ব্যবহার করে বোতাম বা ফিতে দিয়ে বেঁধে রাখা যায় এমন প্যাড তৈরি করতে পারেন। এগুলোতে পানি নিরোধক একটি আস্তরণও রাখা যায়।

কাপড়ের প্যাডের জনপ্রিয়তা বাড়ার যেসব কারণ রয়েছে, তা হলঃ

এগুলোতে বাতাস চলাচল ভাল হয় তাই, দুর্গন্ধ কম হয়।

বাতাস চলাচলের সুবিধার কারণে এগুলোতে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বাধাপ্রাপ্ত হয়।

সিনথেটিক প্যাডের মত এগুলোর ব্যবহারে অ্যালার্জি দেখা দেয় না। যে সব নারীদের ত্বক বেশি সংবেদনশীল তারা কাপড়ের প্যাড ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এগুলো ব্যাবহার করলে যৌনাংগের বিভিন্ন সংক্রমন এড়ানো যায়।

মেয়েদেরকে মাসিকের সময় ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়ার চাইতে হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন জিনিস দিয়ে কাপড়ের প্যাড তৈরি করা শিখিয়ে দেয়া অনেক ভাল। বিশেষ করে গরীব মেয়েদেরকে বার বার ব্যবহার করা যায় এমন প্যাড বানানো শিখিয়ে দিলে তাদের স্কুলে উপস্থিতির হার এবং কাজে অংশগ্রহণ অনেক বেড়ে যাবে।

সূত্রঃ মায়াআপা

Post a Comment

0 Comments