সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশান – নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করুন – ৪টি ধাপে

Self-Examination-of-Breast-Cancer


সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশান – নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করুন – ৪টি ধাপে

স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করার জন্য আপনার স্তন পরীক্ষা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবরকম ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। যেহেতু স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা সম্ভব, তাই কিভাবে আপনি স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করবেন, সেই সম্বন্ধে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

প্রতি মাসে নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করার অভ্যাস করুন। এইভাবে আপনি জানতে এবং বুঝতে পারবেন আপনার স্তন সাধারণত কি রকম দেখতে এবং কি রকম অনুভূত হয়। মাসিক শেষ হয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দিন পর আপনি আপনার স্তন পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এটি স্তন পরীক্ষা করার উত্তম সময়, কারন এই সময় আপনার স্তন স্ফীত (swollen) হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। আপনার মাসিক যদি বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে প্রতি মাসে নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করার জন্য এমন একটি দিন ও তারিখ ঠিক করুন যা আপনার মনে রাখতে সুবিধা হবে -যেমন আপনার জন্মদিনের তারিখ।

চিকিৎসাবিদ্যা অনুযায়ী স্তনের বৃত্তকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। বাহুমুলের (armpit) কাছে স্তনের যে অংশ বাইরে এবং উপরিভাগে আছে, সেই অংশে সবচেয়ে বেশী ফোলা ও দলা পাওয়া যায়। স্তনের নিচের অর্ধাংশে সাধারণত দানাদার বা নুড়িপাথরের মত ছোট ছোট থোকা অনুভব হয়। স্তনবৃন্তের (nipple) নিচে যেই অংশটি আছে, সেইটি অনুভব হয় বড় বড় শস্যদানার থোকার মত। বাকি অংশটি মনে হবে যেন দলা দলা আটার গোলার মত।

আপনার স্তনের বিভিন্ন অংশ স্বাভাবিক অবস্থায় কি রকম অনুভব হয় তা জানা আপনার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। আপনি যত ভাল ভাবে আপনার স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা জানবেন, তত সহজে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার স্তনের কোনরকম পরিবর্তন। যেসকল অবস্থায় আপনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন –

  1. পরিবর্তনটি এক মাসের বেশী সময় ধরে আছে
  2. সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তনটি বড় হচ্ছে বা আরও বেশী লক্ষণীয় হচ্ছে

নিজেই নিজের স্তন যেভাবে পরীক্ষা করবেন –

১. প্রথম ধাপ (Step 1) – সময় নিয়ে, নির্জনে, খালি গায়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে, কাঁধ সোজা রেখে এবং কোমরে হাত রেখে উভয় স্তন লক্ষ করুন। আপনাকে লক্ষ করতে হবেঃ


  • আপনার উভয় স্তনের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও রঙ ঠিক আছে কি না।
  • আপনার উভয় স্তনের আকৃতি সমান আছে কি না, কোন লক্ষণীয় বিকৃতি (visible distortion), বা কোথাও কোন ফোলা (swelling) আছে কি না।
আপনি যদি নিম্নে উল্লেখিত পরিবর্তনের কোনটি খেয়াল করেন, তাহলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুনঃ
  • স্তনের ত্বকের উপরিভাগে ছোট ছোট গর্তের মত (dimpling), কুঁচকানো ত্বক (puckering)বা কোন লক্ষণীয় ফোলা (swelling)।
  • যে কোন স্তনের স্তনবৃন্তের (nipple) স্থান পরিবর্তন হয়েছে (changed position) বা উল্টা হয়ে গেছে ( মানে স্তনবৃন্ত স্তনের ভিতরে ঢুকে গেছে) (pushed inward)
  • স্তনটি লাল হয়ে গেছে, ব্যাথা আছে, স্তনের ত্বকে ফুসকুড়ি হয়েছে, বা স্তনটি ফুলে গেছে।
এইবার মাথার উপরে হাত উঠান, এবং একই ভাবে আবার লক্ষ করুন আপনার কোন স্তনে পরিবর্তন আছে কি না।

২. দ্বিতীয় ধাপ (Step 2) – হাতের আঙ্গুলের ডগা দিয়ে, বৃত্তাকারে এবং বাইরে থেকে ভিতরে কেন্দ্রের দিকে আপনি আপনার পুরো স্তনটি আস্তে আস্তে অনুভব করে দেখুন।পুরো স্তন এবং বাহুমুলের (armpit) অংশটিও পরীক্ষা করে দেখুন। অনুভব করে দেখুন সেইসব জায়গায় কোন ফোলা, দানা, দলা বা উঁচুনিচু আছে কি না।

৩.তৃতীয় ধাপ (Step 3) – আয়নার সামনে দাড়িয়ে হাতের আঙ্গুল ও বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে একে একে উভয় স্তনের বোটা (nipple) চাপ দিন এবং দেখুন কোন রস (discharge) বা কিছু নির্গত হয় কিনা ( দুধের মত সাদা বা হলুদ রঙের তরল পদার্থ অথবা রক্ত বের হয় কি না লক্ষ করুন)।

৪. চতুর্থ ধাপ (Step 4) – এবার শুয়ে পড়ুন এবং শোয়া অবস্থায়ই ডান হাত দিয়ে বাঁ দিকের স্তন অনুভব করুন এবং বাঁ হাত দিয়ে ডান দিকের স্তন অনুভব করুন। দৃঢ়, স্বচ্ছন্দ স্পর্শ দ্বারা হাতের মধ্যের তিন আঙ্গুল দিয়ে নিজের স্তন পরীক্ষা করুন। আঙ্গুল তিনটি একসাথে এবং একরূপ করে রাখবেন, এবং অনুভব করার সময় স্তনের উপরে আঙ্গুলগুলো বৃত্তাকারে ঘুরাবেন। পুরো স্তনটি পরীক্ষা করে দেখবেন – উপর থেকে নিচে, এক পাশ থেকে আরেক পাশ পর্যন্ত – মানে কণ্ঠাস্থি থেকে পেটের উপরেভাগ পর্যন্ত (from collarbone to the top of your abdomen) এবং বাহুমূল থেকে স্তনসংকট পর্যন্ত (from your armpit to you cleavage)।

আরো পোস্ট দেখুন ঃ ব্রেস্ট ক্যানসার, লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে


সূত্রঃ মায়াআপা

Post a Comment

0 Comments