রাতের যে সু-অভ্যাস গুলো বদলে দিতে পারে আপনার জীবন


‘আমার না-বলা বাণীর ঘন
যামিনীর মাঝে
তোমার ভাবনা তারার
মতন রাজে।’

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় রাত। এ যুগে কেউ রাতের নিভৃতে ভাবেন, কেউ থাকেন সামাজিক মিডিয়ার উত্তপ্ত বিতর্কে, কেউ বার্তা পাঠান পৃথিবীর অপর প্রান্তে, কেউ আবার ঘুমান অঘোরে। অভ্যাস যেটিই থাকুক, সু-অভ্যাস গড়ে তোলাই কাম্য। ছোটবেলায় বাবা বলতেন, মানুষ অভ্যাসের দাস নয়, অভ্যাসই মানুষের দাস। রাতের সু-অভ্যাস সম্পর্কে জেনে নিন, আর বেরিয়ে আসুন অভ্যাসের দাসত্ব থেকে। এক দিন-দুদিনে রপ্ত হবে না ঠিকই, তবে শুরুর একটি-দুটি দিন বিন্দুর মতো হয়ে একদিন সিন্ধু তো হবেই।

রাতে ঘুমান। অকারণে রাত জাগবেন না। ভোরের আলো দেখুন, ভোরের হাওয়ায় শ্বাস নিন। ভোরটাকে উপভোগ করতে হলে রাতটাকেই কাজে লাগান ক্লান্তি মিটিয়ে নিতে। সুস্থ ও সুন্দর জীবন আমরা সবাই-ই চাই। ‘আরলি টু বেড অ্যান্ড আরলি টু রাইজ’ ঠিক কী এনে দিতে পারে, তা তো আমরা জানি। তা আমরা পেতেও চাই বটে, তবে নিয়ম মানতেই আমাদের যত সমস্যা!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুন নাহার বলেন, রাতে হালকা খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর হালকা ব্যায়াম করা ভালো। ঘুমের আধা ঘণ্টা আগেই ব্যায়াম শেষ করে ফেলতে হবে। তবে সারা দিনে যাঁরা সময় পান না, তাঁরা চাইলে এ সময়টাকেই সারা দিনে ব্যায়ামের জন্য বেছে নিতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো অসুখ না থাকলে ৪৫ বছরের কম বয়সীরা হালকা ব্যায়াম ছাড়া অন্যান্য ব্যায়াম করতে পারেন এ সময়ে।

হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, রাতের ঘুম শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের সুস্থতা ও সৌন্দর্যের জন্য রাতের ঘুম অপরিহার্য। রাতে সময়মতো খাবার খাওয়া, হাঁটা ও ঘুমানো—সব মিলিয়েই একজন সুস্থ মানুষের রোজকার রুটিন।

কেমন হবে রুটিন

রাত ৮-৯টার মধ্যেই রাতের খাবার খেয়ে নিন। এর ২-৩ ঘণ্টা পর ঘুমাতে হবে। রাতে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। ভাত ও লাল মাংসজাতীয় খাবার (যেমন গরুর মাংস) এ সময় না খাওয়াই ভালো। রাতে অন্য কোনো ব্যায়াম না করলেও খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটুন। ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে পারেন, খুব জোরে হাঁটার প্রয়োজন নেই।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঙ্গে চাই সজীবতা

শোয়ার আগে হাত-মুখ ও পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। গলা ও কাঁধ ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে পারেন, বিশেষত যাঁরা বাড়ির বাইরে কাজ করেন, তাঁদের জন্য কাঁধ ও ঘাড় ভিজিয়ে নেওয়া খুবই ভালো অভ্যাস। চাইলে গোসল করে নিতে পারেন। তবে ঘুমানোর আগে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। পরিষ্কার করার পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী নাইট ক্রিম লাগাতে পারেন। পায়ে ভেসলিন লাগাতে হবে। ঘুমের আগে ত্বক পরিষ্কার করা আবশ্যক।

স্বাভাবিক কিংবা শুষ্ক ত্বকে মেকআপ তোলার আগে মুখে তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। জলপাই তেল, নারকেল তেল বা বেবি অয়েল ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে ভেজা তুলা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এরপর বেশি পরিমাণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। মুছে নেওয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার করতে ফেসওয়াশ প্রয়োজন। এরপর টোনার লাগাতে পারেন। সবশেষে পানিভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

সারা দিনে সময় না মিললে সপ্তাহে ২ দিন রাতে স্ক্রাবিং করুন। ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ দুধ ও আধা চা-চামচ মধু দিয়ে স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ২ ফোঁটা লেবুর রস যোগ করতে পারেন। মধুতে অ্যালার্জি থাকলে এর পরিবর্তে শসার রস নিন।

 ঘুমের আগে চুল আঁচড়ে নিন। বেণি করে ঘুমানো ভালো। পারলে ঘুমানোর আগে মাথার ত্বকে ও চুলে তেল মালিশ করে নিতে পারেন সপ্তাহে ২ দিন।

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া পদ্ধতি

৪ টেবিল চামচ ভাত (রান্নার পর স্টিলের চালনিতে চেলে নরম করে নিতে হবে), ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১টি সেদ্ধ আলু এবং ২টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল (ক্যাপসুলের ভেতরের রস) মিশিয়ে একটি ক্রিম তৈরি করতে পারেন। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো, ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করে। ক্রিম লাগিয়ে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। তবে চাইলে এই ক্রিম সারা রাতও লাগিয়ে রাখা যায়। একবার তৈরি করলে কাচের বয়ামে করে ফ্রিজে রেখে ৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিনই এ ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বকে টোনার ব্যবহারেরও প্রয়োজন পড়ে না।

চোখের নিচে কালচে দাগ হলে

গোলাপের পাপড়িবাটা ১ টেবিল চামচ, ভেসলিন ১ চা-চামচ এবং গ্লিসারিন ১ চা-চামচ পরিমাণ নিয়ে চোখের ক্রিম তৈরি করতে পারেন। কাচের বয়ামে করে ফ্রিজে ৭-১০ দিন পর্যন্ত রেখে দেওয়া যায়। প্রতিদিন শোয়ার সময় চোখের নিচে লাগিয়ে নিন। ভোরবেলা মুখ ধোয়ার আগে এ ক্রিম ওঠানোর প্রয়োজন নেই।

ঘুমের প্রস্তুতি

পাটভাঙা কাপড় (নতুন নয়) পরে ঘুমাতে পারেন। ইস্তিরি করা, পরিচ্ছন্ন ও নরম একটি কাপড় পরে ঘুমালে সতেজ অনুভব করবেন। পারলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। সুগন্ধে ভালো ঘুম হবে। টেবিল ল্যাম্পে হালকা আলো জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। রজনীগন্ধা ও বেলি ফুলের মতো ফুল প্রাকৃতিক অ্যারোমার কাজ করে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

চুল পড়া বন্ধ করতে কিছু উপাদান ও তেল


চুল পড়ার সমস্যা কম বেশি সবারই থাকে। কিন্তু যখন তা অতিরিক্ত হয়ে যায় তখনি শুরু হয় চিন্তা ও নানা রকমের পরামর্শ দাতাদের কথা মত কাজ করা। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল - আজ কালকের যত রংবেরঙ্গের বিজ্ঞাপন, তা দেখে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পরেন যে কোন জিনিস টা ভালো হবে।

আজকালকের যুগে যত উন্নতি হচ্ছে প্রযুক্তির, তত কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জিনিস। কিন্তু এতো বিজ্ঞাপন দেওয়া কম্পানিগুলোর সব পণ্য কি আপনার উপকারে এসেছে। সে প্রশ্ন থেকেই যায়, সাথে আরো অনেক কিছুই তো রয়েছে, যেমন: ভেজাল পণ্য বিক্রয়, অতিরিক্ত লাভের আশায় পণ্য নকল করা। আর এসব পণ্য ব্যবহার করে লাভ এর বদলে গুনতে হয় ক্ষতির পরিমান কে। সমাধান কি তাহলে, সমাধান হল প্রকৃতির দিক ছুটে যাওয়া। প্রকৃতি থেকে যে উপাদান আপনি কাজে লাগাবেন, সেটা কিন্তু বিফল এ যায়না। তাহলে এখন দেখে নেওয়া যাক, কি করতে পারেন:




প্রথম টিপস্:

কালো জিরার পুষ্টিগুণের কথা আমরা অনেকেই জানি। পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু রান্নায় স্বাদ বাড়াতেই নয়,শরীরকে নানা অসুখের সঙ্গে লড়তেও সাহায্য করে কালো জিরা। সর্দি-কাশি রুখতে কালো জিরে দিয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা নতুন কিছু নয়। তবে এর গুণের কথা আমরা অনেকেই জানি না।


আসুন জেনে নেই কালো জিরার পুষ্টিগুণ:

  1. চুল পড়া বন্ধ করতে কালো জিরার তেল খুবই উপকারি। এক চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে সম পরিমাণ কালো জিরের তেল মিশিয়ে গরম করে নিন। মাথায় ত্বকে এই তেল ঈষদুষ্ণ অবস্থায় মালিশ করুন। এক সপ্তাহ টানা এমন করলে চুল পড়া কমে যাবে।
  2. গ্রিন টির সঙ্গে কালো জিরের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে এই ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগাতে পারেন।
  3. কালো জিরায় থাকা প্রচুর পরিমাণ ফসফরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করে।
  4. পেটের সমস্যায় কাজে আসে কালো জিরা। শুকনো কালো জিরার ভেজে গুঁড়ো করে নিন।এবার আধ কাপ ঠাণ্ডা করা দুধে এই কালো জিরে এক চিমটে মিশিয়ে খালিপেটে খান প্রতিদিন। দুধ ঠাণ্ডা হওয়ায় বদহজমও হবে না।পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
  5. মাথা যন্ত্রণা মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে কালো জিরের তেল কপালে মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায়।
  6. সর্দি-কাশি থেকে বুকে চাপ লাগলে কালো জিরার তেল গরম করে বুকে ও পিঠে মালিশ করলে আরাম পাবেন।
  7. উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে সপ্তাহে এক দিন কালো জিরের ভর্তা খেলে উপকার পাবেন।
  8. কালো জিরায় ফসফরাস ও লৌহের উপস্থিতি অধিক পরিমাণে থাকায় রক্তাল্পতার রোগীরাও এ থেকে উপকার পাবেন।
কালো জিরাকে বলে সর্ব রোগের ঔষধ, অবশ্যই কালো জিরা প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে খেলে আপনার শারীরিক যেকোন সমস্যার সমাধান হতে পারে, আবার হয়তো আপনি পেতে পারেন মুক্তি নানান রকম কঠিন রোগ থেকেও। তাই কালো জিরা বাসায় রাখবেন, তবে প্রাকৃতিক ভাবে যেটা পাবেন সেটা।




দ্বিতীয় টিপস্:

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। নিয়মিত ব্যবহারে চুলে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক জৌলুস। পাশাপাশি কমবে চুল পড়াও। সরিষার তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় এই তেল ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।
চুলে নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।

সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন মিনারেল ও ভিটামিন এছাড়াও থাকে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম । যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।

তাই চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার তালুতে সরিষার তেল দিতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।

আসুন জেনে নেই সরিষার তেলে কীভাবে চুলে ব্যবহার করবেন?

  1. সরিষার তেল, লেবুর রস ও ধনিয়া গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে মাখুন। আধ ঘণ্টা রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল মজবুত ও খুশকিমুক্ত হবে।
  2. টক দই ও সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন।আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।
  3. সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করুন।
আজকাল বাজারে যে সরিষার তেল পাওয়া যাচ্ছে তা যে কতটুকু খাটি তার কোন ঠিক নেই। ঘানি টানা সরিষার তেলের গন্ধ আর ঝাজ বর্তমানে থাকা কোন তেলেই থাকেনা।

চুলের যত্নে নানান রকম প্রসাধনিক সামগ্রি যা ব্যবহার করে থাকেন, তার গুণগত মান কেমন তা বিবেচনা করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত মানুষিক চাপ ও চিন্তার কারণে চুল তারাতারি পড়ে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার

ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা কি বলেন?


ডেঙ্গু রোগে বিচলিত বা আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানা হয়েছে। নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে অতিসত্বর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

  • জ্বর কমার প্রথম দিন রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি
  • বারবার বমি/মুখে তরল খাবার খেতে না পারা
  • পেটে তীব্র ব্যথা
  • শরীর মুখ বেশি দুর্বল অথবা নিস্তেজ হয়ে পড়া/হঠাৎ করে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া
  • শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া/শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে যাওয়া

বাড়িতে চিকিৎসা:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম (জ্বর চলাকালীন এবং জ্বরের পর এক সপ্তাহ)
  • স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া, যেমন খাবার স্যালাইন
  • গ্লুকোজ, ভাতের মাড়, বার্লি, ডাবের পানি, দুধ/হরলিকস, বাসায় তৈরি ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি

জ্বর থাকাকালীন চিকিৎসা, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট:

  • পূর্ণবয়স্কদের জন্য ২টি করে প্রতি ৬/৮ ঘণ্টা পর পর
  • বাচ্চাদের জন্য বয়স ও ওজন অনুসারে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী
  • জ্বর থাকাকালীন রোগী দিনরাত সব সময় মশারির ভেতরে থাকবে



জ্বর থাকাকালীন এই ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে:

  • ব্যথানাশক ওষুধ (এন.এস.এ.আই.ডি গ্রুপ যেমন, ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপারক্সেন, মেফেন)
  • এসপিরিন/ক্রোপিডোপ্রেল (এন্টি প্লাটিলেট গ্রুপ) হৃদরোগীদের জন্য জ্বর থাকাকালীন ও প্লাটিলেট হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে
  • ওয়ারফারিন (এন্টিকোয়াগুলেন্ট) হৃদরোগীদের জন্য জ্বর থাকাকালীন ও প্লাটিলেট হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে
  • অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিরেকে)
  • কুসুম গরম পানি বা নরমাল তাপমাত্রার পানি দ্বারা সারা শরীর মোছা (এই ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি দেওয়া) 
  • বাড়ি ও এর আশপাশের এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিশ্চিহ্ন করা এবং মশার আবাসস্থলে স্প্রে করা

ডেঙ্গু জ্বরের পর কী করবেন?



ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশের আনাচকানাচেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ, এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল এগিয়ে এসেছে এবং লম্বা হয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকসহ অনেকে মারাও গেছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চদ্র রায় বলেন, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সে জন্য জ্বর হলে অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম হবে। জ্বরের সঙ্গে যদি সর্দি-কাশি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অন্য কোনো সমস্যা থাকে, সেটি ডেঙ্গু না হয়ে অন্য কিছু হতে পারে। আবার একই সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বর ও অন্য সমস্যাও হতে পারে। আবার ডেঙ্গু জ্বর নেমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে। কারণ, জ্বর–পরবর্তী সমস্যায় মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।

কী খাবেন?

প্রচুর পরিমাণে তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাওয়ার স্যালাইন। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানিজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। তেল বা চর্বিজাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া খাবার এই সময়ে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

যেসব ওষুধ খাওয়া উচিত নয়

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না। আরও কিছু ওষুধ আছে যেগুলো বন্ধ করতে হতে পারে। অর্থাৎ কী ওষুধ খাওয়া যাবে আর কী ওষুধ খাওয়া যাবে না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করুন।

প্লাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট বা রক্তকণিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদি শরীরের কোনো অংশ দিয়ে রক্তপাত না হয়, তবে প্লাটিলেটের সংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কখন প্লাটিলেট দিতে হবে, সেই বিষয়টি বরং চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।


মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি সতর্কতা

মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেক দিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে পারে। যাদের এখনো ঋতুস্রাব হয়নি, তাদেরও এই ডেঙ্গু জ্বরের কারণে তা শুরু হয়ে যেতে পারে। এমন হলে অবশ্যই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসককে জানাতে হবে। তা না হলে প্রচুর রক্তপাত হতে হতে রোগী শকে গিয়ে মারাও যেতে পারে।

ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে। ভাগগুলো হচ্ছে , বি এবং সি

প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা স্বাভাবিক থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না। শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হতে পারে, জন্ডিস দেখা দিতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় জ্বর ভালো হয়ে যায় কিন্তু রক্তচাপ কমে যায়, শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হতে হবে।

‘সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে।

পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে

জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। জ্বর ভালো হলেও বিশ্রামে থাকতে হবে। কারণ, ডেঙ্গু জ্বর–পরবর্তী সমস্যা তাতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। কত দিন বিশ্রাম নিতে হবে তা ডেঙ্গু–পরবর্তী সমস্যার তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে। তাই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

লেখক: চিকিৎসক, সূত্রঃ প্রথম আলো

জ্বর হলে কী খাওয়া যায় এবং কোনটা যায়না


জ্বর কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু খাবার দারুণ কার্যকর। তরল খাবার জ্বরের সময় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে বলে তরল খাবার হজমে সহায়তা করতে, তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে, পানিশূন্যতা রোধ ইত্যাদিতে ভালো কাজ করে। তাই এ সময় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি পানি পান করা উচিত। পানি ছাড়া তরল খাবার হিসেবে যা যা খেতে পারেন তা হলো— ফলের রস বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত লেবু, আনারস, কমলা, মালটার মতো টকজাতীয় ফলের রস বেশ উপকারী। দিনে দুই থেকে তিনবার এসব ফলের রস পান করা সম্ভব হলে তা তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোসহ জ্বরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে সাহায্য করে।


জ্বরে যা খাবেন:

চিকেন স্যুপ

চিকেন স্যুপ জ্বর হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ে, প্রয়োজন হয় বাড়তি ক্যালরির। এ সময় তাই প্রোটিনের ভূমিকা অনেক। কিন্তু মাছ-মাংসের মতো প্রোটিন তখন চিবিয়ে খেতে চান না অনেকে। পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দ্রুত আরোগ্য লাভে চিকেন স্যুপ বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ভাইরাল ফ্লুর বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে সবজি মেশালে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

সবজির স্যুপ

যেহেতু জ্বরে অরুচি থাকে, তাই অনেকেই সঠিকমতো খাবার খেতে পারে না। আবার অনেকে খাবার হজমও করতে পারে না। তাই দেখা যায়, দৈনিক সবজির চাহিদা পূরণ করতে রোগীরা ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে সবজির স্যুপ বিকল্প হিসেবে কাজে আসে। সবজি ভালোমতো সিদ্ধ করে ছেঁকে তার সঙ্গে যদি আদা যোগ করা হয়, তবে সেই পানিও রোগীর জন্য অনেক উপকারী।

লাল চা

সর্দি-কাশিজনিত জ্বরে লাল চা বেশ উপকারী। সবচেয়ে ভালো হয় আদা, লং, এলাচ পানির সঙ্গে ফুটিয়ে অর্ধেক করে এর সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে। এ ছাড়া পান করা যেতে পারে তুলসী চা। খেতে পারেন গ্রিন টিও।

নরম খাবার

জ্বরের সময় প্রচুর দৈনন্দিন খাবার একটু নরম বা অর্ধতরল করে খাওয়াতে পারলে ভালো। এসব খাবার বেশি চিবোতে হয় না বলে সহজে গেলা যায়। হজমও হয় সহজে। নরম ও পাতলা মুগডালের খিচুড়ি, জাউভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম ও কাঁটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি রোগীকে দেওয়া যেতে পারে।

যা খাবেন না:

জ্বরের রোগীদের জন্য উপকারী খাবারের পাশাপাশি অপকারী কিছু খাবার আছে, যা ওই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন—ফাস্ট ফুড, তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া, গুরুপাক খাবার, সালাদ ইত্যাদি। শক্ত খাবার, দুধ চা, কফি, কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। কেননা এসব খাবার শুধু হজমেই অসুবিধা করে না বরং দ্রুত আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। জ্বর কমাতে ব্যথার বা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হতে পারে তাই, যাতে গ্যাস না এসিডিটি না হয় সেজন্য তরল, অল্প নরম খাবার বার বার খেতে হয়।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ এ্যাপোলো হাসপাতাল। সূত্রঃ একুশে টিভি

ডেঙ্গুতে হতে পারে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা


ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী মশা কামড়ানোর দুই থেকে সাত দিন পর ডেঙ্গু জ্বর শুরু হয়। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখব্যথা, অরুচি, বমি বমি ভাব, হাড়, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি হলো ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ। এত দিনে সবাই জেনেছেন যে এই জ্বর পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার পর শুরু হয় জটিলতা (ক্রিটিক্যাল ফেজ)। এই সময় বা তারপর যেকোনো রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে, ফুসফুসের পর্দার নিচে পানি জমতে পারে। দেখা দিতে পারে নানা ধরনের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা। এমনিতেও টিপিক্যাল ডেঙ্গু/ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গুতে জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি থাকতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের একটি জটিলতা হলো প্লাজমা লিকেজ বা রক্তনালি থেকে প্লাজমা বাইরে বেরিয়ে আসা। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে, যেমন ফুসফুস ও পর্দার মাঝে (প্লুরাল ইফিউশন) কিংবা পেটে সামান্য পরিমাণ পানি জমতে পারে। কিন্তু বেশি প্লাজমা লিকেজ হলে রক্তচাপ কমে যায় ও রোগী শকে চলে যায়। বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে ও মাল্টি অর্গান ফেউলিউর হতে পারে। ফুসফুস, কিডনি, হার্ট ইত্যাদি এর ব্যতিক্রম নয়। হার্ট ফেইলিউর বা কিডনি ফেইলিউর হলে বুকে পানি জমা, শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়া ইত্যাদি জটিলতায় পড়তে পারে রোগী। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে তাই শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, শ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া অসম্ভব নয়।


লক্ষণগুলো কী?

  • দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস 
  • শিশুদের পাঁজরের খাঁচা ভেতর দিকে ঢুকে যাওয়া
  • শ্বাসের শব্দ শোনা
  • পেট বা মুখ ফুলে যাওয়া
  • গলার কাছে জুগুলার ভেইন ফুলে ওঠা
  • কাশি

সতর্কতা

বুকে পানি জমা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত বুকের এক্স–রে, ইসিজি ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। হিসাব করে সঠিক স্যালাইন সঠিক মাত্রায় দিতে হবে, ২৪ ঘণ্টায় তরল গ্রহণ ও প্রস্রাবের পরিমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখতে হবে। এগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণ ছাড়া সম্ভব হয় না বলে রোগীকে আইসিইউ বা এইচডিইউতে রেখে চিকিৎসা করা উচিত। এ ছাড়া ডেঙ্গু জ্বরে প্লাটিলেট কমে গেলে বা অন্য কোনো কারণে–অকারণে অতিরিক্ত স্যালাইন, রক্ত, প্লাটিলেট, ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা ইত্যাদি ব্যবহারের জন্য অস্থির হবেন না। কখন কী করতে হবে তার জন্য আপনার চিকিৎসকের ওপর ভরসা রাখুন। 

ডা. মো. আজিজুর রহমান, বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সূত্রঃ প্রথম আলো

ডেঙ্গুর পরীক্ষা কখন করানো দরকার - বিস্তারিত


ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে এখন। চারদিকে ডেঙ্গু-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় জ্বর হোক বা না হোক, অনেকেই হাসপাতালে ছুটছেন পরীক্ষার জন্য। নিজেই পরীক্ষা করাচ্ছেন। পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার একাধিক জায়গায় পরীক্ষা করাচ্ছেন। তাই ডেঙ্গুর পরীক্ষার ব্যাপারে একটু জানা থাকা ভালো।

প্রথম কথা হলো, জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যেকোনো জ্বরই যে ডেঙ্গু, তা-ও নয়। ডেঙ্গু হয়েছে ধরে নিয়ে নিজে নিজে পরীক্ষা করাতে গেলে জ্বরের অন্য সাধারণ কারণ, যেমন নিউমোনিয়া, প্রস্রাবে সংক্রমণ, টাইফয়েড, ফ্লু ইত্যাদি অজানা থেকে যায়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ কথা আরও বেশি প্রযোজ্য। পরীক্ষার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর লক্ষণ, উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষার তথ্য-উপাত্ত। তাই আগে চিকিৎসককে বুঝতে দিন।

দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গু জ্বরে প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কাজেই নিজে নিজে পরীক্ষা করালে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে ঠিক কবে প্রথম জ্বর এসেছিল, মনে রাখুন। জ্বরের একেবারে প্রথম দিন থেকেই ডেঙ্গু এনএস১ অ্যান্টিজেন পজিটিভ হওয়ার কথা। তবে চতুর্থ বা পঞ্চম দিন থেকে এটি আবার নেগেটিভ হয়ে যায়। তাই যদি জ্বর চার-পাঁচ দিনের বেশি হয়ে যায়, তাহলে আর এই পরীক্ষা করে লাভ নেই। সে ক্ষেত্রে ডেঙ্গু আইজিএম অ্যান্টিবডি টেস্ট করা যায়। এ সময় এটি পজিটিভ আসবে। আবার ৯-১০ দিনের মাথায় এটিও নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তখন আইজিজি অ্যান্টিবডি পজিটিভ দেখায়। এই বিষয়গুলো জটিল, তাই কখন কোনটা করতে হবে, সে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।

তৃতীয়ত, ডেঙ্গু এনএস১ নেগেটিভ হলেই যে ডেঙ্গু হয়নি, তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা কঠিন। লক্ষণ, উপসর্গ ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেকে একদিন একটা ল্যাবে এনএস১ পজিটিভ দেখে হয়তো পরদিন বা দুদিন পর আরেকটা ল্যাবে গিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট পান। এতে আরও বিভ্রান্তিতে পড়েন তাঁরা। মনে রাখতে হবে, এনএস১ পরীক্ষা প্রথমে পজিটিভ এবং দু-এক দিন পর নেগেটিভ হয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়।

চতুর্থত, ডেঙ্গুর অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডির সঙ্গে অন্যান্য অনেক পরীক্ষা আছে, যা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন শ্বেতরক্তকণিকা, হিমাটোক্রিট, অণুচক্রিকা, রক্তের অ্যালবুমিন, যকৃতের এনজাইম এসজিপিটি ইত্যাদি। শুধু অ্যান্টিজেন টেস্ট করালে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানাই থেকে যেতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো